728

Chuti Kobita Bangla - Chuti Poem Lyrics By Subho Dasgupta

Chuti Poem Lyrics By Subho Dasgupta 



কিছু একটা করেন স্যার আজ চারদিন হয়ে

গেল আমার ছোট্ট মেয়েটা ঐ নোংরা

বারান্দায় পড়ে আছে ।

জুতার দোকানের সামান্য মাইনের কর্মাচারী নিকুঞ্জ ।

তার আদরের মেয়ে মা মনির কঠিন অসুখ ।

ডায়ালিসিস করতে হবে । পাড়ার এম এল এ

দয়ালু হাতে চিঠি দিয়েছেন মন্ত্রীর সি এ কে ।

তিনি চিরকুট পাঠিয়েছেন আরেক আমলাকে ।

আমলা নোট পাঠিয়েছেন হাসপাতালের সুপারকে।

কিন্তু গত কদিনে নিকুঞ্জের সমস্ত উদ্বেগ আর উৎকন্ঠাকে তুচ্ছ করে

সে নোট পৌছায়নি হাসপাতালে। নোট গেলে বিনা খরচে

মা মনির ডায়ালিসিস করা হবে ।

গরিব নিকুঞ্জ সারাদিন দোকানে

মানুষের পায়ে জুতা পড়ায় ।

অন্য মনস্ক কাজে ভুল হয়ে যায় বারবার

মালিক ধমক লাগায় , এক একটা নধর পায়ে জুতা পরাতে পরাতে

নিকুঞ্জের ইচ্ছা হয় ,পয়সাওয়ালা খদ্দেরের পা দুটো চেপে ধরে বলেঃ

-স্যার,আমার একমাত্র মেয়ে পয়সার অভাবে

হাসপাতালের নোংরা বারান্দায় একা পড়ে রয়েছে ।

তার চিকিৎসা হচ্ছে না । দিন না স্যার কয়েক হাজার টাকা ।

আমি সারা জীবন আপনার গোলাম হয়ে থাকবো।

দুটোর সময় ছুটি নিয়ে কলকাতার ডাকসাইটে জ্যাম ডিঙ্গিয়ে

অসংখ্য মানুষের ভীড় এড়িয়ে নিকুঞ্জ

রাইটার্সের পৌঁছায় হাঁফাতে হাফাঁতে ।

কেরানী বাবুর টেবিলের সামনে দাঁড়ায় চোরের মত

বাবুর্টি বললেন

-আজ আর হবে না দাদা,

– কেন ?

-জানেন না ? নাগাল্যন্ডের পশুমন্ত্রীর মৃত্যুতে

আজ আমাদের হাফ ছুটি ঘোষনা করা হয়েছে ।

-ও তাহলে কাল ?

-কালও হবে না । কাগজ পড়েন না নাকি ?

প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর মৃত্যুতে কাল পুর্ন দিবস ছুটি ।

– তাহলে পরশু ? নিকুঞ্জ ব্যস্ত হয়ে উঠে ।

– পরশু শনিবার, তারপর রবিবার ,আপনি একবারে সোমবার আসুন ।

সোমবার মানে আরও চারটি দিন বাকি ?

তলিয়ে যেতে থাকে নিকুঞ্জ ।

যেতে যেতে তার কানে বারবার ভেসে আছে মা মনির কন্ঠস্বরঃ

বাবা আমার কবে ছুটি হবে ?

আমি কবে বাড়ি যাবো বাবা ?

হঠাৎ নিকুঞ্জর মাথায় যেন আগুন জ্বলে উঠে,

দুর্বল অভুক্ত শীর্ন শরীরে হঠাৎই যেন জ্বলে উঠে ভয়ংকর তেজ ।

রাইটার্সের বারান্দা দিয়ে ছুটতে থাকে নিকুঞ্জ ।

আর ছুটতে ছুটতে সোজা গিয়ে নিকুঞ্জ ডুকে

ডালহাউসী পাড়ার প্রাচীন এক বন্দুকের দোকানে ।

আগুন জ্বলছে তখন নিকুঞ্জুর মাথায় । ধুমকেতুর মত

নিকুঞ্জ চিৎকার করে বলতে থাকে

-আমাকে একটা বন্দুক দিন,আমাকে একটা বন্দুক দিন ,

যা থেকে হাজার হাজার গুলি বের হবে ।

আমি সমস্ত নেতা,প্রাক্তন মন্ত্রী, কর্তাদের গুলি করে মেরে ফেলব

তারপর, সারাদেশে একদিনই রাষ্ট্রীয় শোক,একদিনই ছুটি ।

আর তারপর আমার মা-মনির ডায়ালিসিস।

দোকানের দারোয়ান ঘাড় ধরে নিকুঞ্জকে বের করে দেয়।

নিকুঞ্জ ছুটতে ছুটতে হাফাঁতে হাফাঁতে হাসপাতাল ।

হঠাৎ ঝপ করে লোডশেডিং এর মত নিকুঞ্জ’র চোখের সামনে

সব কিছু অন্ধকার হয়ে যায় ।মা-মনির বিছানাটা খালি ।

মা- মনি কোথায় ? কোথায় আমার মা-মনি ?

অনেক রাতে….

ভাড়া করা ম্যাটাডোরে একটা খাটিয়ায় মা-মনি কে শুইয়ে

দূর মফস্বলের বাড়ীর পথ ধরে নিকুঞ্জ ।

সারাটা রাস্তা পুর্নিমার চাঁদ আলো ধরলো মা-মনির মুখে ।

এক আকাশ নক্ষত্র আর তারা আলো বিছিয়ে রাখলো

মা-মনির ঘরে ফেরার পথে ।

আর নিকুঞ্জ শুনতে পেল নক্ষত্র চাঁদ তারা সবাই বলছে

আমাদের ছুটি নেই নিকুঞ্জ,আমরা আলো জ্বেলে রেখেছি

তোমার মা-মনির জন্য আমরা আলো জ্বেলে রেখেছি ।

 


 


ভোরের আলো তখন সবে ফুটছে ।

ম্যাটাডোর ভ্যান এসে থামলো নিকুঞ্জ’র

ভাঙ্গা বাড়ীর দরজায় । নিকুঞ্জ’র বউ পাগলের মত ছুটে এল

-এনেছো ? আমার মেয়েকে এনেছো ?

পাথর হয়ে যাওয়া নিকুঞ্জ তুমুল কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে

আর বার বার বলতে লাগল

-“তোমার মা-মনির ছুটি হয়ে গেছে ”

“তোমার মা-মনির ছুটি হয়ে গেছে 





Post a Comment

0 Comments